জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা: জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষের স্পিকারের আসনের পেছনের দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কালেমা তায়্যিবা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদের বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি খোদাই করে সংযোজন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের ১৩তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর প্রাক্কালে সরকারের শীর্ষপর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা অনুযায়ী এই সংস্কারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পরামর্শ ও সরাসরি নির্দেশনায় জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ এই অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও নান্দনিক সংযোজনের কাজ বাস্তবায়ন করে। সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই নির্ধারিত স্থানগুলোতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই ক্যালিগ্রাফি ও লিপি খোদাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষের মূল মঞ্চের পেছনে স্থাপিত আরবি ক্যালিগ্রাফিটি নান্দনিক ও মর্যাদাপূর্ণ কাঠামোর ওপর বিশেষ নকশায় প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া সংসদ ভবনের প্রধান প্রবেশদ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ ফটকগুলোতে স্থায়ীভাবে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস’ বাক্যটি খোদাই করা হয়েছে, যা আগত সংসদ সদস্য, কূটনৈতিক প্রতিনিধি ও দর্শনার্থীদের দৃষ্টিগোচর হবে।
জাতীয় সংসদের ইতিহাসে সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ সজ্জা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন ও সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন এই সংযোজনের বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক মহলে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক চেতনার প্রতিফলন ঘটাতেই আইনসভার মূল কক্ষে এবং প্রবেশদ্বারে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন মেয়াদে জাতীয় সংসদের ভেতরের ও বাইরের বিভিন্ন স্থাপনায় সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। তবে সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে সরাসরি পবিত্র কালেমার ক্যালিগ্রাফি স্থাপন এবং প্রবেশদ্বারে মূলনীতি খোদাইয়ের ঘটনা সাম্প্রতিক সংসদীয় ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক ও কাঠামোগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে ত্রয়োদশ অধিবেশনকে সামনে রেখে সংসদ ভবন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নবসজ্জিত অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যেখানে আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সংসদ ভবনের স্থাপত্যশৈলী ও কাঠামোগত ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে।