নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে, তবে এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের যে পূর্ণ প্রত্যাশা রয়েছে তা শতভাগ পূরণ হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের গত ১৮০ দিনের কার্যক্রমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কতটা অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, সে বিষয়ে জনগণই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার সচিবালয়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও নীতিগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে দেশের সাম্প্রতিক সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সন্ত্রাস দমন এবং আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণসহ নানাবিধ রাষ্ট্রীয় বিষয় উঠে আসে। এ সময় আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার উপস্থিতি বা তৎপরতা সংক্রান্ত জাতিসংঘের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার কোনো ধরনের অনুমাননির্ভর ও অসত্য প্রতিবেদনকে আমলে নিচ্ছে না এবং দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সুসংহত ও কার্যকর রয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি সংকট নিরসন এবং টেকসই বিদ্যুৎ ও শিল্প উৎপাদন নিশ্চিত করতে সরকার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে একটি ল্যান্ডবেইজড (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে এবং আপৎকালীন সংকট মোকাবেলায় যাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাস বা জ্বালানি মজুদ রাখা যায়, সেই সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি অনুসন্ধান এবং উত্তোলন প্রক্রিয়া জোরদারে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ যথাসময়ে বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা নিজস্ব দেশীয় উৎস থেকেই পূরণ করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দেবে।