জাতীয় ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অবস্থিত প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে পারস্পরিক অংশীদারত্ব আরো সুসংহত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং কানাডীয় হাইকমিশনার পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। এ সময় উভয় পক্ষই স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বিদ্যমান দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ, নিবিড় ও সহযোগিতামূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক আধুনিকায়ন, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও রূপকল্প তুলে ধরেন। এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ায় কানাডার সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ ও বিশদ মতবিনিময় হয়।
আলোচনায় সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান, কৌশলগত প্রতিরক্ষা সংলাপ এবং দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ ছাড়া বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার তৎপরতা এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দুই দেশের যৌথ অবদান ও সহযোগিতা আরো বেগবান করার ওপর উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। বিশেষ করে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সদস্যদের দীর্ঘদিনের পেশাদারি ভূমিকার প্রশংসা করে কানাডার অভিজ্ঞতা ও কারিগরি সহায়তার সমন্বয় কীভাবে ঘটানো যায়, তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে একটি কাঠামোবদ্ধ ও সুদূরপ্রসারী পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ নিয়েও双方র মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন যে, কার্যকর দ্বিপক্ষীয় উদ্যোগ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় ও সম্প্রসারিত হবে।