রাজনীতি ডেস্ক
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক অরাজকতা, আর্থিক খাতের ব্যাপক দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম বিপর্যয় কাটিয়ে দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি উল্লেখ করেন, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ৬ মাস (১৮০ দিন) পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সরকারের বিগত ছয় মাসের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিগত সরকারের সময়কালের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশে মৌলিক মানবাধিকার ও আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন ঘটেছিল। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং ভিন্নমত দমনের একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহারের কারণে প্রশাসনিক ও সামাজিক কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
অর্থনৈতিক খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর্থিক খাতকে পরিকল্পিত লুটপাটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ লোপাট থেকে শুরু করে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ও বেসরকারি একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকে অনিয়ম সংঘটিত হয়। বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক বাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপচয় করা হয়েছে। ফলে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সরকারের সময় ও সুনির্দিষ্ট আর্থিক শৃঙ্খলা প্রয়োজন হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগের বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষক কার্ড’ চালুর পাশাপাশি নদী ও খাল খনন, পরিবেশ সুরক্ষায় দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নীতিগত পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের মূল বৈশিষ্ট্য হলো জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। সংসদ ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এবং যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা।