আইন আদালত ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাগেরহাট-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান পুলক আসামিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছাত্র-জনতার মিছিলে যোগ দেন ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। ওই দিন দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আন্দোলন চলাকালে শাহবাগ থানার চাঁনখারপুল এলাকায় অবস্থানকালে আসামিদের দিক থেকে ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি। পরবর্তীতে দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১৪ মার্চ নিহত মনিরের স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাইনুল ইসলাম খান পুলক গত ১৫ আগস্ট আদালতে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করেন, মামলার প্রাথমিক তদন্তে এবং প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মনির হত্যাকাণ্ডে আসামি আমিরুল আলম মিলনের সরাসরি সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা এবং মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এদিন শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিনের আবেদন পেশ করার প্রস্তুতি নিলেও আদালত সার্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন আমলে নেন। বাদীপক্ষের আইনজীবীরা জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যার ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং এই আদেশের ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার নিশ্চিতের পথে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলোতে দায়ের করা মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনি বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সংসদ সদস্য আমিরুল আলম মিলনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষিতে আদালতের এই নির্দেশ বিচার প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আনবে এবং অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিতকরণেও তদন্তকারী সংস্থাকে আইনি সহায়তা প্রদান করবে। বর্তমানে আসামিকে এই মামলায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য আইনি হেফাজতে রাখা হয়েছে।