অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ৪৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মোট ৫২টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধীদের কবল থেকে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঢাকা মহানগরীর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক চক্রের বিস্তার রোধে পরিচালিত বিশেষ সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় বিভিন্ন থানা এলাকায় দিনব্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিচালিত অভিযানে রাজধানীর মিরপুর বিভাগ থেকে সর্বোচ্চসংখ্যক অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে গ্রেপ্তারকৃতদের সংখ্যার মধ্যে রয়েছে মিরপুর বিভাগে ১২৩ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৮ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৫৩ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৮ জন, গুলশান বিভাগে ৪৪ জন, লালবাগ বিভাগে ৪১ জন, রমনা বিভাগে ৩৫ জন এবং গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের অভিযানে ৮ জন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে এসব আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি বিদেশি রিভলবার, ২টি সামুরাই তরবারি এবং ১টি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জব্দ করা হয়েছে ৮৬ কেজি ৫৯০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার ৭৬৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ দশমিক ৩৫ গ্রাম হেরোইন, ১ বোতল বিদেশি মদ এবং ৩ বোতল দেশি মদ।
অন্যদিকে চুরি ও চোরাচালানবিরোধী নজরদারির আওতায় ১০টি মোবাইল ফোন, ২১ দশমিক ২ লিটার তরল ওষুধের কেমিক্যাল এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের চুরি হওয়া ৪টি স্টিলের টয়লেট ট্যাপ ও ৫টি প্লাস্টিকের ট্যাপ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রেলওয়ের সম্পত্তি চুরি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে চিহ্নিত করে এ মালামাল জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় অপরাধীদের হাত থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে এক ভুক্তভোগীকে।
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক আইনে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে পৃথক ৫২টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। নগরবাসীর জানমালের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের নিয়মিত ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে।