শেয়ার বাজার ডেস্ক
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তাসনিম সিনহা। গত ১০ আগস্ট থেকে তাঁর এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, একমি ল্যাবরেটরিজের পরিচালনা পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাসনিম সিনহাকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোম্পানির নীতিনির্ধারক ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যাশা, তাসনিম সিনহার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে। একই সঙ্গে ওষুধের গুণগত মান উন্নয়ন এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানির অবস্থান সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি একমি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে দেশের পুঁজিবাজারে ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ার ৮৩ টাকা ৪০ পয়সা দরে লেনদেন হয়েছে। কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতার বিষয়ে পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বছরের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ১১ টাকা ৪৮ পয়সা।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত একমি ল্যাবরেটরিজের বর্তমানে মোট শেয়ার সংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখ ১ হাজার ৭০০টি। কোম্পানির মালিকানা কাঠামো পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে কোম্পানির ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩০ দশমিক ৫০ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ২৯ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে শূন্য দশমিক শূন্য ২ শতাংশ শেয়ার বিদ্যমান রয়েছে।
নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কোম্পানিটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন গতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঔষধ শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে একমি ল্যাবরেটরিজের অবস্থান ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।