খেলাধুলা ডেস্ক
আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে ঘোষণা করা হবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের পরবর্তী বিজয়ী। এই মর্যাদাপূর্ণ আসরকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা সমীকরণ ও পূর্বাভাস। এই ধারাবাহিকতায় পুরস্কারটির বর্তমান ধারক ও ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) তারকা ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে দাবি করেছেন, এবারও ব্যালন ডি’অর বিজয়ের গৌরব অর্জন করবেন পিএসজিরই কোনো এক ফুটবলার।
সম্প্রতি ফরাসি ফুটবল ম্যাগাজিন ‘ফ্রান্স ফুটবল’ আসন্ন আসরের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। এই তালিকায় স্বাভাবিকভাবেই বর্তমান বিজয়ী দেম্বেলের নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে নিজের ওপর শতভাগ আস্থার কথা বললেও তিনি সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের পারফরম্যান্সকে এগিয়ে রাখছেন।
সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উসমান দেম্বেলে বলেন, এবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী নিয়ে পূর্বানুমান করা খুব বেশি কঠিন কিছু নয়। তার বিশ্বাস, পুরস্কারটি পিএসজির ডিনামিতেই থেকে যাবে এবং ক্লাবের কোনো একজন খেলোয়াড়ের হাতেই উঠবে সোনালি ট্রফিটি। যদিও তিনি সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট একক নাম উচ্চারণ করেননি, তবে সম্ভাব্য শীর্ষ তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম স্পষ্ট করেছেন।
নিজের পছন্দের শীর্ষ তিন ফুটবলারের তালিকা প্রকাশ করে দেম্বেলে জানান, নির্দিষ্ট কোনো ক্রমানুসারে না হলেও তার বিবেচনায় এই তালিকায় রয়েছেন খিচা কাভারেইস্কা, হ্যারি কেইন এবং কিলিয়ান এমবাপ্বী। চলতি মৌসুমে প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। বিশেষ করে হ্যারি কেইন ও খিচা কাভারেইস্কা নিজেদের ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ একটি মৌসুম পার করেছেন, যা তাদের এই মর্যাদাপূর্ণ দৌড়ে শক্ত অবস্থানে রেখেছে।
এদিকে নিজের নাম তালিকায় থাকা সত্ত্বেও বিজয়ী হিসেবে নিজের নাম উচ্চারণ করতে নারাজ ২৯ বছর বয়সী এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তিনি এই তালিকায় নিজেকে রাখতে পারেন না এবং কখনোই নিজের পক্ষে ভোট দেননি। অথচ মাঠের পারফরম্যান্সের বিচারে বর্তমান ব্যালন ডি’অর জয়ী দেম্বেলেও যে এবার শিরোপার অন্যতম প্রবল দাবিদার, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
চলতি মৌসুমে পিএসজিকে ঘরোয়া লিগ, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ এবং উয়েফা সুপার কাপসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রফি জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেম্বেলে। পুরো মৌসুমে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে তিনি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ২৫ বার বল পাঠানোর পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৩টি গোল। এমন ঈর্ষণীয় পরিসংখ্যান সত্ত্বেও নিজের বিনয়ী মন্তব্য এবং সতীর্থদের প্রতি তার এই সমর্থন ফুটবল অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্স এবং মহাদেশীয় প্রতিযোগিতার সাফল্য ব্যালন ডি’অর নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। পিএসজির খেলোয়াড়দের সামগ্রিক দলগত সাফল্য এবং ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান তাদের এবারও পুরস্কারের মঞ্চে শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে। আগামী ২৬ অক্টোবরের লন্ডন আসরে কার হাতে উঠবে এই সোনালি ট্রফি, সেটাই এখন দেখার বিষয়।