1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা কামনা বাংলাদেশের

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশ ডেস্ক
দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। ঢাকায় নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এই প্রত্যাশার কথা জানানো হয়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ছাড়াও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কারিগরি শিক্ষাখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন এবং শ্রমবাজারে গতিশীলতা আনয়নের বিষয়গুলো বিশেষভাবে স্থান পায়। এছাড়া পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকদের মধ্যে মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে রোহিঙ্গা মানবিক সংকট মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া সরকারের ধারাবাহিক ও উদার সহায়তার জন্য দেশটির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ দীর্ঘসময় ধরে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বহুমুখী চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ক্যানবেরার আরও সক্রিয় ও জোরালো কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা কামনা করেন তিনি।
জবাবে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে অস্ট্রেলিয়ার অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মানবিক সহায়তা বজায় রাখার পাশাপাশি এই সংকটের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানে অস্ট্রেলিয়া তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও জনশক্তি উন্নয়ন প্রসঙ্গে বৈঠকে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার টেকনিক্যাল অ্যান্ড ফারদার এডুকেশন (টাফে) প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর (টিটিসি) মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রস্তাব দেন। বিশেষ করে, বাংলাদেশি কেয়ারগিভার এবং দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণে অস্ট্রেলিয়ার কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে পারে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিদেশের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব হবে।
হাইকমিশনার কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতেও বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার ধারাবাহিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাসহ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গলের স্বার্থে বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও পারস্পরিক স্বার্থে এই কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026