অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম হ্রাসের প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের মূল্য কিছুটা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দেশের বুলিয়ন বাজারে স্বস্তি ফেরাতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। নতুন এই দাম অনুযায়ী ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। গত রোববার সকাল ১০টা থেকে দেশের সব জুয়েলারি দোকানে কার্যকর হওয়া এই নতুন দর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানভেদে দেশের বাজারে সব ধরনের সোনার দামই হ্রাস করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে পূর্বে থাকা ২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬২ টাকার পরিবর্তে এখন এই মানের সোনা কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা। একইভাবে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৫৯০ টাকা, যা ইতিপূর্বে ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৯০ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৭৫০ টাকা হ্রাস পেয়ে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছিল বাজুস। সে সময় বিশ্ববাজারের দরের অজুহাতে ২২ ক্যারেট সোনার ভরি ৫ হাজার ৪৬২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার চাহিদাজনিত দামের ওঠানামার কারণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানেই তা আবার নিম্নমুখী হলো।
সোনার বাজারদর কমানো হলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং আন্তর্জাতিক bullion মার্কেটের অস্থিতিশীলতার কারণে দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুটির দামে ঘন ঘন পরিবর্তন ঘটছে। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, সোনার দাম কিছুটা কমানো হলেও সামগ্রিক বাজারদর সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরেই রয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় বাজারে সোনার অলংকার বিক্রির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।