শিক্ষা ডেস্ক
এবারের সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার উত্তরপত্র কোনো ধরনের পক্ষপাত বা কৃত্রিমতা ছাড়াই সম্পূর্ণ নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, অতীতে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে কৃত্রিম উপায়ে জিপিএ-৫ এবং পাসের হার বাড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকার এমন একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যেখান থেকে শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব মেধা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। মূল্যায়নের এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে পরীক্ষক ও শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ফলাফলের সার্বিক দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের পরীক্ষায় পাসের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যায় বাস্তবসম্মত চিত্র ফুটে উঠেছে, যা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত শিক্ষাগত অর্জনের প্রতিফলন। অতীতে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপে পরীক্ষার ফলাফলে যে স্ফীত বা অবাস্তব চিত্র তৈরি হতো, তা পরিহার করে প্রকৃত মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই বর্তমান শিক্ষা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
ফলাফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করেছে, তাদের পাশাপাশি তাদের পরিবারও আজ গর্বিত। তবে যে সকল শিক্ষার্থী আশানুরূপ ফল অর্জন করতে পারেনি, তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। জীবন এখানেই শেষ নয়। সরকার এসব শিক্ষার্থীর পাশে থেকে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ বিকাশে এবং ভবিষ্যতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনে সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মোড. আবদুল খালেকসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ। বক্তারা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষার ফলাফলে এই বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট সর্বস্ব পড়াশোনা থেকে সরে এসে প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে উদ্বুদ্ধ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।