বিনোদন ডেস্ক
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রিজভী আহমেদ গণমাধ্যমে দেওয়া একাধিক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন যে, চিত্রনায়িকা শাবনূর নাকি চিত্রনায়ক সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেল করতেন। শুধু তা-ই নয়, শাবনূরের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়েও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে শাবনূরকে মনে মনে বিয়ে করার আগ্রহের কথা বললেও আরেক সাক্ষাৎকারে ২০১৬ সালে তাঁদের গোপনে বিয়ে হয়েছিল বলে কাল্পনিক দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি সালমান শাহর মৃত্যুর জন্য শাবনূর ও মরহুম নায়কের মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করেন।
এসব বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শাবনূর জানান, রিজভী আহমেদের সঙ্গে তাঁর কখনো সরাসরি সাক্ষাৎ তো দূরের কথা, কোনো ধরনের পরিচয়ও নেই। ১৯৯৯ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কখনোই কোনো যোগাযোগ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তিনি যুক্তরাজ্যেই যাননি। অথচ ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ অসত্য তথ্য সাজিয়ে তাঁদের মধ্যকার কাল্পনিক বিয়ে ও বিচ্ছেদের গল্প ফাঁদছেন। কোনো অসৎ উদ্দেশ্য, ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল কিংবা অন্য কারও প্ররোচনায় পড়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে মনে করেন এই চিত্রনায়িকা।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ যে তদন্ত শুরু করেছিল, তাতে রিজভী আহমেদ সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর এসে তাঁর এমন আকস্মিক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্য জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। শাবনূরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবাদলিপি প্রকাশের পর চলচ্চিত্র অঙ্গন ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অসংখ্য অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ী এই বানোয়াট অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান এবং শাবনূরের পাশে থাকার বার্তা দেন। অনেকে বিষয়টিকে একধরনের মানসিক বিকার বা ভিত্তিহীন অপপ্রচারের অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে শাবনূরের এই বক্তব্যের দিনে সালমান শাহ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এবং বহুল আলোচিত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রায় তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে সালমান শাহর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের সংক্ষিপ্ত অথচ বর্ণিল ক্যারিয়ারে ২৭টি জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ঢালিউডের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসা থেকে এই জনপ্রিয় নায়কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন নিয়ে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে আইনি লড়াই ও জনমনে নানান আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।