রাজনীতি ডেস্ক
রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই মনোনয়নিপত্র সংগ্রহ করে।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধিত হলে অলি আহমদ একটি সর্বজনগ্রাহ্য ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারতেন এবং জাতির জন্য সেই সম্ভাবনাও যথেষ্ট উজ্জ্বল ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ও সংস্কারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাবের অভাবে রাষ্ট্র একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্বের সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বা সংখ্যাগরিষ্ঠপক্ষের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় বড় কোনো বিষয় নয়; বরং গণতান্ত্রিক ধারা ও প্রক্রিয়াকে সচল রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক ও গুরুত্বপূর্ণ এই পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্রচর্চার পরিপন্থী হয়। তাই তারা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তোলার মাধ্যমে সঠিক গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট রয়েছেন।
এ সময় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অতীতের বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু নিয়ে কথা বলেন জামায়াত এই নেতা। তিনি দাবি করেন, অতীতে গণভোটের রায় যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে সাংবিধানিক কাঠামোতে এবং বিশেষ করে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হতো। এর ফলে জাতীয় সংসদের সদস্যরা আরও স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। ১১-দলীয় জোটের মতে, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকারের ওপর অর্পিত নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতা দূর করে রাষ্ট্রে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যই তারা রাষ্ট্রপতি পদে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন।