বাংলাদেশ ডেস্ক
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ধারাকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংহত ও বেগবান করার লক্ষ্যে দেশের তিনটি গ্রামকে ‘এসডিজি ভিলেজ’ পাইলট প্রকল্প হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। পাইলট প্রকল্পের জন্য নির্বাচিত তিনটি গ্রাম হলো— রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রাম, খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রাম এবং দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর গ্রাম। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নের বিষয়টি মাথায় রেখে দেশের ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের এই জনপদগুলোকে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো এসডিজির ১৭টি নির্ধারিত লক্ষ্যকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা। এর আওতায় নির্বাচিত গ্রামগুলোতে পর্যায়ক্রমে বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যার মধ্যে রয়েছে স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি জমির যথাযথ নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। পাশাপাশি গ্রামের প্রতিটি শিশুর মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় হ্রাস এবং সকলের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জল ও আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। তবে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং প্রকৃত অর্থে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল সরাসরি প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি। এই পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পথ সুগম হবে। তিন অঞ্চলের এই তিনটি গ্রামকে সফলভাবে এসডিজি ভিলেজে রূপান্তর করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও একই আদলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজতর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।
এদিকে সরকারের এই জনকল্যাণমূলক এবং যুগান্তকারী উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি গ্রামের বাসিন্দারা গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই প্রকল্প দেশের সামগ্রিক গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং সরকারের রূপকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।