বাংলাদেশ ডেস্ক
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার মজবুত ভিত্তি গঠন, শিক্ষাকে কর্মমুখী করা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রবিবার সকালে রাজধানী ঢাকার হোটেল শেরাটনে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফ আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বর্তমান প্রাথমিক শিক্ষার কিছু কাঠামোগত দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ধাপ পেরিয়ে যাওয়ার পরও মৌলিক বিষয়গুলোতে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। পঠন, লিখন ও সাধারণ গণিতের মতো মৌলিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে থাকা ভবিষ্যৎ শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই সংকট উত্তরণে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে, গণভীতি দূর করতে এবং গণিত শিক্ষাকে আকর্ষণীয় করতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যায়ক্রমে বিশেষ ম্যাথ ল্যাব বা গণিত গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।
বর্তমান সমাজে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট একটি বড় সমস্যা হিসেবে প্রাইভেট টিউশন ও কোচিং বাণিজ্যর বিস্তারকে চিহ্নিত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি মন্তব্য করেন, দেশে প্রাইভেট টিউশনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা বর্তমানে এক ধরনের মহামারির রূপ ধারণ করেছে। শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের বাইরে এই অতিরিক্ত কোচিং ও প্রাইভেট পড়ার সংস্কৃতির কারণে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের ভেতরেই যেন শিক্ষার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেই শিক্ষার্থীদের মূল পঠন-পাঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে, যাতে অভিভাবকরা আলাদা করে প্রাইভেট পড়ানোর বাড়তি চাপের মুখে না পড়েন।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরেই খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ববি হাজ্জাজ। কেবল চার দেয়ালের ক্লাসরুমের পড়ালেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, খেলাধুলাকে শিক্ষার একটি অপরিহার্য ও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং একটি দক্ষ ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে উঠবে।