বাংলাদেশ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার টেকসই উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের महत्त्वाकांक्षी উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর নিয়মিতভাবে পাঁচ কোটি করে চারা রোপণ ও পরিচর্যার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। রবিবার (৯ আগস্ট) বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে ১৫ দিনব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি এই তথ্য জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে ১৫ দিনব্যাপী এই পাক্ষিক মেলা ও অভিযানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও জনকল্যাণমুখী উন্নয়নে বিশ্বাসী। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব এবং এর ফলে বাংলাদেশের বহুমুখী ঝুঁকির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয়। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো এই পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অস্তিত্বের সংকটের মুখে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপের পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
জীবাশ্ম জ্বালানি ও অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি এখনই সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বন করা না হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা মানুষের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে গণহারে বৃক্ষ রোপণ অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। বরিশাল বিভাগীয় বৃক্ষ মেলায় এই অঞ্চলে বনজ, ফলষ ও ঔষধি গাছের চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মোট ৫০টি নার্সারি তাদের পসরা সাজিয়ে অংশ নিয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মেলা উপলক্ষে আয়োজিত এই কার্যক্রমে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের বনায়নের পরিধি বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।