শেয়ার বাজার ডেস্ক
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের মিশ্র প্রবণতা ও ওঠানামার মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হয়েছে। সপ্তাহের প্রথম এই দিনে বাজার খোলার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন চলতে থাকে।
রবিবার লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৮৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময়ে ডিএসইর অন্যান্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ্ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৮৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৯২ পয়েন্টে উন্নীত হয়। এই সময় পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ১৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৩৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ১৫৭টির দাম কমেছে এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৯২টি কোম্পানির শেয়ারদর।
লেনদেনের শুরুর এই পর্যায়ে ডিএসইতে শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে নিটোল ইন্স্যুরেন্স, সার্প ইন্ডাস্ট্রি, এমএল ডায়িং, সেনা ইন্স্যুরেন্স, সামিট পাওয়ার, সোনালি পেপার, একমি ল্যাবরেটরিজ, ডোমিনেজ স্টিল, বেক্সিমকো লিমিটেড এবং মালেক স্পিনিং মিলস। এর আগে দিনের কার্যদিবস শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসইএক্স সূচক ৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেলেও পরবর্তীতে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আগের অবস্থান থেকে ৬ পয়েন্ট কমে যায়। এরপর লেনদেনের গতি কিছুটা নিম্নমুখী হয়ে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক ৩ পয়েন্ট হ্রাসের মাধ্যমে ৫ হাজার ৮৫৭ পয়েন্টে নেমে আসে, যা পরবর্তীতে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচকের ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে ১৫ হাজার ৭২৪ পয়েন্টে অবস্থান করে। তবে এর পরপরই সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা যায়। এই সময়ে সিএসইতে মোট ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলোচিত সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭টি কোম্পানির মধ্যে ১৮টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, ১৪টির দরপতন ঘটেছে এবং ৫টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের সতর্কতা এবং কোম্পানির শেয়ারের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর ভিত্তি করে সূচকে এই ওঠানামা পরিলক্ষিত হচ্ছে। পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং তারল্য প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।