বাংলাদেশ ডেস্ক
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো একদিনের সরকারি সফরে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে তিনি দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে করে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করেন। দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাতের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের পর তার মহেশখালী থেকে বাঁশখালী যাওয়ার কথা রয়েছে।
মাতারবাড়ী পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে পুনর্বাসন সহায়তা ও নবনির্মিত বাসগৃহ হস্তান্তর করা হবে। সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে সরকারের নেওয়া পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে সংশ্লিষ্টরা করছেন।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী ফটিকছড়ি উপজেলার পেহেলগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সেখানে তিনি আলেম-ওলামাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। এরপর বিকেলে হাটহাজারী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যাকবলিত মানুষের পুনর্বাসনসংক্রান্ত আরেকটি জনসমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
সফরের শেষভাগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রবেশ করবেন। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের অডিটরিয়ামে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক সভায় অংশ নেবেন তিনি। দিনব্যাপী বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন তদারকি এবং বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতেই তাঁর রাজধানীতে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।