আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কানাডার বৃহত্তম প্রদেশ অন্টারিওতে সামাজিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে প্রাদেশিক সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কানাডায় বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বা বসবাসের বৈধ অনুমতি না থাকা ব্যক্তিরা আর অন্টারিও ওয়ার্কস (ওডব্লিউ) এবং অন্টারিও ডিসঅ্যাবিলিটি সাপোর্ট প্রোগ্রাম (ওডিএসপি)-এর মতো প্রাদেশিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাবেন না। অবিলম্বে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসী এবং নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী বাসিন্দার আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পথ বন্ধ হলো।
অন্টারিওর শিশু, কমিউনিটি ও সামাজিক সেবাবিষয়ক মন্ত্রী মাইকেল পারসা আনুষ্ঠানিকভাবে এই নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, জনগণের করের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগানো এবং আর্থিক সংকটে থাকা বৈধ বাসিন্দাদের অধিকার নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় কেবল তারাই প্রাদেশিক সামাজিক সহায়তা পাবেন, যাদের কানাডায় বৈধভাবে বসবাসের অনুমতি রয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু অস্থায়ী স্টুডেন্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটধারীদের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা প্রাপ্তির শর্ত কঠোর করা হয়েছে।
প্রাদেশিক সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সাম্প্রতিক আইনি বিরোধ মূল ভূমিকা পালন করেছে বলে জানা গেছে। কয়েক দশক আগে অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে কানাডায় প্রবেশ করা এবং পরবর্তী সময়ে পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এক ব্যক্তিকে সামাজিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেয় স্থানীয় একটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল। ওই নির্দেশের পরই প্রদেশজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যোগ্যতার শর্তাবলি পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, চরম দুর্দশাগ্রস্ত ও অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে রাষ্ট্রের সামাজিক সুরক্ষা তহবিল অবৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য হতে পারে না। তারই ধারাবাহিকতায় প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা দ্রুত এই প্রশাসনিক সংশোধনী কার্যকর করল।
মন্ত্রী মাইকেল পারসা স্পষ্ট করেন, সরকারের এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক অস্বচ্ছলতায় থাকা নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ সুরক্ষিত রাখা। তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ওপর যে বিপুল আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছিল, তা নিরসনে নিয়মের স্বচ্ছতা আনা অপরিহার্য ছিল। নতুন বিধিমালার কারণে এখন থেকে যেকোনো সামাজিক ভাতার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এদিকে প্রাদেশিক সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে স্থানীয় অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠন ও বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দল। অধিকারকর্মীদের মতে, কাগজপত্রহীন অভিবাসীরাও স্থানীয় অর্থনীতিতে শ্রম ও সেবার মাধ্যমে অবদান রেখে চলেছেন। আকস্মিকভাবে এই সুবিধা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রান্তিক ও অসহায় মানুষগুলো চরম মানবিক সংকটের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত সমাজে অভিবাসীবিরোধী মনোভাব ও সামাজিক বিভাজন আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। সব মিলিয়ে এই নীতি বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে অন্টারিওর রাজনীতি ও অভিবাসন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।