খেলাধূলা ডেস্ক
দেশের মাটিতে নিজের বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করে দেশের সরকারের কাছে নিরাপত্তার গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা চেয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলার ফাঁকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তাঁর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই এবং তাঁকে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই দেশে আসতে হবে।
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরার আর কোনো সুযোগ নেই বলে সরকার মনে করে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বিষয়টিকে শুরু থেকেই যথেষ্ট নমনীয় ও সহনশীলভাবে বিবেচনা করেছিল, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। তিনি আরও বলেন, একজন খেলোয়াড় হিসেবে সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তাভাবনা করলেও বর্তমান বাস্তবতায় তা প্রযোজ্য নয়। সাকিব আল হাসান দেশে ফিরলে তাঁকে সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে অতীতে স্বৈরাচারী সরকারের বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর সাধারণ প্রক্রিয়ায় ফেরার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব আল হাসান পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বিগত সরকারের সময় তিনি দলটির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব দাবি করেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি এবং দেশের মাটিতে আইনগতভাবে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার মুখোমুখি হতে চান। তবে তাঁর এই দাবির বিপরীতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে দেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান এবং পরিচয় যা-ই হোক না কেন, মামলার মুখোমুখি হতে হলে তাঁকে আইন অনুযায়ী আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। ক্রীড়াঙ্গনে সাকিবের অবদান এবং তাঁর বিদায়ী সিরিজ নিয়ে আলোচনা চললেও আইনগত জটিলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।