বাংলাদেশ ডেস্ক
ঢাকা: দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ রোগীকে যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্যও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সেজন্য ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং একটি আধুনিক রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সম্প্রসারিত ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন ‘নিউরোসায়েন্সেস-২’–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, একটি কার্যকর ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয়। বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতিমালার সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ যেন স্বল্প ব্যয়ে বিশ্বমানের স্নায়ুবিজ্ঞান ও নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই অগ্রাধিকার থেকেই এই বর্ধিত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে স্থাপিত আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি, অতিরিক্ত শয্যা এবং বিশেষায়িত জনবল দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে আসা হাজার হাজার জটিল রোগীর চিকিৎসায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্বাস্থ্যসেবায় মানবিকতার ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি রোগ নির্ণয় করতে পারে, কিন্তু রোগীর মানসিক উদ্বেগ ও শঙ্কা দূর করতে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের কোনো বিকল্প নেই। উন্নত প্রযুক্তি ও মানবিক চিকিৎসার মেলবন্ধন ঘটলেই একটি টেকসই চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
চিকিৎসা সেবার পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা কেবল চিকিৎসকদের একক দায়িত্ব নয়। চিকিৎসক, রোগী এবং রোগীর স্বজনদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সহানুভূতির সম্পর্ক থাকা অপরিহার্য। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এবং রোগীদের প্রাপ্য সেবা ও মর্যাদা নিশ্চিত না হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্বাস্থ্যসেবাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত চিকিৎসা কেবল শহরের বিত্তবান শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী চিকিৎসা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ও চিকিৎসা প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন।