1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
ইউরোপ সফরে নগর বাউল জেমস: পর্তুগাল-ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে কনসার্ট ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি, উপকূলীয় এলাকা খালি করার নির্দেশ তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে: প্রধানমন্ত্রী কানাডার অন্টারিওতে অবৈধ অভিবাসীদের সামাজিক সহায়তা সুবিধা বাতিল গাংনীতে সরঞ্জাম ও নগদ টাকাসহ দুই অনলাইন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার ঢাকাকে আধুনিক ও দুর্গন্ধমুক্ত নগরী গড়তে ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়: ইরান প্রতিটি জেলায় আধুনিক মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের ইয়েমেনের মোচা বন্দরে হুতিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৪, আহত অন্তত ৮ নেইমারের জোড়া অ্যাসিস্টে সান্তোসের জয়, গ্যালারির সমালোচনার জবাবে সংহতির বার্তা

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি, উপকূলীয় এলাকা খালি করার নির্দেশ

রিপোর্টার
  • আপডেট : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার দেখা হয়েছে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির ভূতাত্ত্বিক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে উপকূলবর্তী এলাকাগুলো থেকে শত শত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৫৮ মিনিটে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের ফ্লোরেস সাগর অঞ্চলে এ শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রদেশটির এনদে শহর থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে এবং কেন্দ্রস্থলটি ভূগর্ভের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত ছিল। অগভীর ভূগর্ভস্থ ভূকম্পন হওয়ার কারণে এর তীব্রতা ছিল অত্যন্ত বেশি। প্রধান ভূকম্পনের পরপরই সেখানে ৬ দশমিক ১ মাত্রার একটি কম্পনসহ অন্তত দুটি শক্তিশালী আফটারশক অনুভূত হয়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
শক্তিশালী ভূকম্পনে পূর্ব নুসা তেংগারা এবং সংলগ্ন দ্বীপগুলোর আবাসিক ভবন ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে কেঁপে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তীব্র ঝাঁকুনির ফলে বাড়িঘর ও স্থানীয় হাসপাতালগুলো থেকে লোকজন দ্রুত খোলা আকাশের নিচে নেমে আসেন। ফ্লোরেস অঞ্চলের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের গুরুতর আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প সংঘটিত হওয়ার পরপরই ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় অঞ্চলে সুনামি সতর্কতা জারি করে। বিএমকেজির ভূমিকম্প ও সুনামি বিভাগের পরিচালক ড্যারিয়োনো উইজায়ান্তো জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে পূর্ব নুসা তেংগারা, দক্ষিণ সুলাওয়েসি এবং পশ্চিম নুসা তেংগারা প্রদেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সুনামি ঝুঁকিতে রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে আধা মিটার (০.৫ মিটার) থেকে সর্বোচ্চ ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার সুনামির ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত জনসাধারণকে সমুদ্রসৈকত, নদী তীরবর্তী অঞ্চল ও নিচু এলাকাগুলো অবিলম্বে ত্যাগ করে পাহাড়ি বা উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
সুনামি সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্লোরেস দ্বীপের প্রধান শহর মাউমেরে এবং অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূকম্পনের পর সমুদ্র উপকূলের পানি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় পেছনে সরে যায়—যা সাধারণত সুনামি বা তীব্র জলোচ্ছ্বাস আঘাত হানার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রগুলো জানিয়েছে, কিছু উপকূলীয় স্টেশনে ১৯ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার উচ্চতার সুনামির ঢেউ ইতোমধ্যে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকার সক্রিয় টেকটোনিক ফল্ট লাইনের ওপর অবস্থিত ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থানের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এই দ্বীপপুঞ্জে প্রায়শই শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে। এর আগে ২০০৪ সালে সুমাত্রায় ৯ দশমিক ১ মাত্রার প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়াসহ ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রতলে সংঘটিত এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের কারণে অস্ট্রেলিয়ার মূল ভূখণ্ড, সংশ্লিষ্ট কোনো দ্বীপ বা অধীনস্থ অঞ্চলের উপকূলে সুনামি আঘাত হানার কোনো ঝুঁকি নেই। ইন্দোনেশিয়ার স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকারী দল নিয়োজিত রেখেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ অব্যাহত রেখেছে।
s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026