বাংলাদেশ ডেস্ক
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশগত সুরক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ক্যাম্পাসের খাল পুনঃখনন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পের অংশ হিসেবে অতি দ্রুত মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ কারিগরি দল (টেকনিক্যাল টিম) বিশ্ববিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে আসবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
মন্ত্রী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ও শিক্ষকবৃন্দের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের খাল পুনঃখননের বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সচিবকে অবগত করা হয়েছে। কারিগরি দল সরেজমিন সমীক্ষা ও প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করার পর মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে ক্যাম্পাসের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত খালগুলোর পুনঃখনন দীর্ঘদিনের দাবি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও সংস্কারের অভাবে খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজতর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুষ্ঠানে পানিসম্পদ মন্ত্রী বর্তমান সরকারের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সরকার দেশব্যাপী অন্তত ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই বৃহৎ কর্মযজ্ঞের অংশ হিসেবেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খালগুলো পুনঃখনন করা হবে। সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখা, নৌপথের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং কৃষি ও পরিবেশ খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান খাল পুনঃখননের উদ্যোগের জন্য মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভার শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর ক্যাম্পাসে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় এটি একটি টেকসই উদাহরণ হয়ে থাকবে। কারিগরি সমীক্ষা শেষে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের পরিধি নির্ধারিত হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।