স্বাস্থ্য ডেস্ক
অফিস চলাকালে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা সেবা প্রদানে নিয়োজিত থাকার অভিযোগে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মঈনুল হাসান চিশতীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আকস্মিক পরিদর্শনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এই প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর পুরান ঢাকার ইংলিশ রোড এলাকায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় নির্ধারিত সরকারি কর্মঘণ্টায় কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখছিলেন ডা. মঈনুল হাসান চিশতী। পরিস্থিতি সরেজমিন যাচাই করে মন্ত্রী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত কর্মসময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবা দেওয়ার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে মফস্বল ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা প্রায়শই প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং চরম ভোগান্তির শিকার হন। স্বাস্থ্য খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই আকস্মিক তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চিকিৎসকদের একাংশের এই প্রವೃತ್ತি দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির মৌলিক অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করছে। সরকারি অনুদান ও বেতনের বিনিময়ে সাধারণ মানুষকে সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও জবাবদিহির অনুপস্থিতির সংস্কৃতিতে লাগাম টানতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের মধ্যে সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মঘণ্টা ও সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে। দায়িত্বে অবহেলা এবং সরকারি নিয়মনীতি ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।