রাজশাহী — জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, চার লেন সড়ক ও নতুন শিল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে অঞ্চলটির অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সাথে রাজশাহীর বাসিন্দাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর ঘোষণা দেন তিনি।
বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নগরীর আলুপট্টি মোড়ে অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি শীর্ষক এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীর যোগাযোগ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে বর্তমান শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে সম্প্রসারিত করে কার্গো বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হবে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের উৎপাদিত কৃষি পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে জেলায় চারটি স্পেশাল ইকোনমিক জোন (ইপিজেড) স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এছাড়া রাজশাহী থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল পর্যন্ত সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, যা রাজধানী ঢাকার সাথে এই অঞ্চলের যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে।
স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অসমাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করা হবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আরেকটি নতুন জেলা হাসপাতাল এবং একটি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হবে। ঝিমিয়ে পড়া শিল্প অঞ্চলের শ্রমিকদের সুবিধার্থে শিল্প হাসপাতালও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার আশ্বাস দেন তিনি। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী জেলার প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পতন সুনিশ্চিত হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় তরুণ প্রজন্ম রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে দেশের গণতন্ত্র পুনর্বাসিত করেছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তব্য প্রদানকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা আইনুল হক এবং আন্দোলনের সময় আহত ছাত্র-জনতা। বক্তারা শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দ্রুত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল হুদা সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।