বিনোদন ডেস্ক
সম্প্রতি ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া নানা গুঞ্জন এবং বিতর্কের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন দেশের জনপ্রিয় নাট্য ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। যেকোনো ভিত্তিহীন রটনা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা-সমালোচনায় পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিতর্ক দীর্ঘায়িত করতে তিনি আগ্রহী নন বলে জানিয়েছেন। বরং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে নীরব থেকে পেশাগত কাজেই নিজের সম্পূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখার পক্ষপাতী তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শোবিজ অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আধিক্যের কারণে অভিনয়শিল্পীদের পেশাগত কাজের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও অপপ্রচারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব বিষয় নিয়ে শিল্পীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এমন বাস্তবতায় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান বিষয়গুলোকে অত্যন্ত সংযম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে এই অভিনেত্রী জানান, যেকোনো ধরনের গুঞ্জন নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। ভিত্তিহীন কথার জবাবে নিজের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখালে তা পরিস্থিতিকে আরও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যেতে পারে। অহেতুক কাদা ছোড়াছুড়ি বা তর্কবিতর্কে লিপ্ত না হয়ে নীরব থাকাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সঠিক তথ্য ও বাস্তবতা কখনো অপ্রকাশিত থাকে না; সময়ের ব্যবধানে সত্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই জনসমক্ষে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে প্রেম কিংবা সম্পর্ক প্রসঙ্গেও নিজস্ব ভাবনার কথা তুলে ধরেন সাদিয়া। তিনি জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ভাগ্যের ওপর আস্থাশীল। মানুষের জীবনের সার্বিক পরিকল্পনা সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশ্বাসী নন। মানুষের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার বাইরেও জীবনের স্বাভাবিক গতি রয়েছে এবং সঠিক সময়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই জীবনের পরবর্তী ধাপগুলো এগিয়ে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়টিকে নিজের ভিত্তি মজবুত করার উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করছেন সাদিয়া আয়মান। তিনি জানান, প্রচারণামূলক বা মুখরোচক বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেয়ে নিজের অভিনয় দক্ষতাকে শাণিত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। কাজের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে পেশাগতভাবে আরও সমৃদ্ধ ও অভিজ্ঞ হয়ে পরিণত বক্তব্য উপস্থাপনের লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। শিল্পাঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার জন্য অহেতুক বিতর্কে শক্তি ও সময় অপচয় না করে সৃজনশীল কাজের মানোন্নয়নকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
বর্তমানে এই অভিনেত্রী বিভিন্ন নাটক ও প্রজেক্টের দৃশ্যধারণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পেশাগত ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা এবং পারিবারিক পরিসরকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। পরিবারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং গৃহপালিত প্রাণীর যত্ন নেওয়ার মতো সাধারণ বিষয়ের মাঝেই তিনি মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পান বলে জানান। যেসব পরিস্থিতি বা আলোচনা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সচেতনভাবেই সেগুলো এড়িয়ে চলে নিজের পেশাগত লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতে চান সম্ভাবনাময়ী এই অভিনেত্রী।