জাতীয় ডেস্ক
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনলাইনে সরাসরি তাদের প্রাপ্য অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছর পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের নিজস্ব জমাকৃত ও সরকারি তহবিলের অর্থ প্রাপ্তির আওতায় এলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের পক্ষ থেকে বিগত বছরগুলোতে শিক্ষক কল্যাণ তহবিলের অব্যবস্থাপনা, আর্থিক অনিয়ম এবং প্রশাসনিক জটিলতার চিত্র তুলে ধরা হয়। বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়, ভুয়া বা জাল ইনডেক্স তৈরি, অর্থ দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর এবং প্রাতিষ্ঠানিক ডিজিটাল কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার ফলে এই তহবিল মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছিল। আর্থিক খাতের সামগ্রিক বিশৃঙ্খলার প্রভাব শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত এ তহবিলের ওপরও পড়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানানো হয়, ১৯৯১ সালে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং পরবর্তীতে ২০০২ সালে ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’ গঠন করা হয়েছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে সরকারি তহবিল থেকে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দের মাধ্যমে শুরু করে পরবর্তীতে তা ৮৯ কোটি টাকায় উন্নীত করার মাধ্যমে এ কাঠামোর ভিত্তি স্থাপিত হয়। পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসারে অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি কার্যক্রম চালুর ইতিবাচক প্রভাবের কথাও স্মরণ করা হয়, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তহবিল ব্যবস্থাপনার নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষক-কর্মচারীদের মাসিক জমার সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট হারে অর্থ যুক্ত হয়ে একটি সমন্বিত তহবিল গঠিত হয়, যার লক্ষ্য অবসরোত্তর জীবনে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে অতীতে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং অনিয়মের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছিল।
বক্তারা বলেন, জাতি গঠনে ভূমিকা রাখা শিক্ষক সমাজের অবসরকালীন প্রাপ্য পেতে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা দুর্নীতির শিকার হওয়া কাম্য নয়। এসব জটিলতা দূর করতেই স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পৌঁছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরোত্তর সুবিধার অর্থ যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে সরাসরি স্ব-স্ব অ্যাকাউন্টে জমা হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে ডিজিটাল ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।