বিশেষ প্রতিবেদক
যশোরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গণতন্ত্র সংহতকরণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন এবং মাদক ও সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে পৃথক কর্মসূচি পালন করে জেলা বিএনপি, যেখানে দলের দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারের ওপর আলোকপাত করা হয়।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে দিবসটি উপলক্ষে যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কার্যালয় চত্বর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রাটি বকুলতলার শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। পরবর্তীতে সেখানে শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সদস্য এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশ পুনর্গঠন এবং নতুন বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহরের মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে যশোর জেলা বিএনপি। সমাবেশ শেষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দলের স্থানীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও অবদান অপরিসীম, তবে সেই ত্যাগের অজুহাতে কাউকে ক্ষমতার অপব্যবহার বা অন্যায় করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
যশোরের সীমান্তঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এলাকাটিকে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ঝুঁকিপূর্ণ জোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পূর্বে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সহায়তায় অপতৎপরতা চললেও বর্তমান প্রশাসন কোনো ধরনের মাদক, সন্ত্রাস বা বেআইনি কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেবে না। জিরো টলারেন্স নীতির মাধ্যমে সীমান্ত অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার প্রক্রিয়ায় সকল আত্মত্যাগকারী ও রাজনৈতিক অংশীজনদের একসঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভাষা বা অপকৌশল অনুকরণ না করে সুস্থ ধারা চর্চার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে জনগণের রায়কে মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
সমাবেশ ও র্যালিতে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা এবং রাতে দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বার্তাটি স্পষ্ট রূপ লাভ করেছে।