অনলাইন ডেস্ক
ভারতে অবস্থানরত নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিনকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানানো হয়েছে। তবে তিনি যদি নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরতে চান, তবে প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির পর সরকার বিদ্যমান আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে অতীতে তসলিমা নাসরিনের ওপর হওয়া কথিত নিপীড়ন ও তৎসংশ্লিষ্ট অভিযোগের আইনি প্রতিকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জানান, তিনি দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা বা তামাদি প্রযোজ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী হিসেবে যেকোনো নাগরিকের মতোই তিনি আদালতে মামলা দায়ের ও আইনি সুরক্ষা চাওয়ার অধিকার রাখেন।
একই সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা। তিনি জানান, সরকার কোনো ধরনের ভূরাজনৈতিক চাপ কিংবা সংকটে নেই। সম্প্রতি বিদেশি কূটনীতিকদের সফর ও বৈঠক ঘিরে চলমান বিভিন্ন আলোচনাকে তিনি স্বাভাবিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, রাশিয়া ও ইরানসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গেই ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। বিগত শাসনকালের মতো ক্ষমতায় টিকে থাকার উদ্দেশ্যে নয়, বরং জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, চলতি আগস্টের শেষ সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শ্রমিক রপ্তানি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে সিন্ডিকেট ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে মালয়েশিযাগামী কর্মীদের যেসব ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা নিরসন করে সব খাতের শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।