নিজস্ব প্রতিবেদক
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো ধরনের বক্তব্য বা বার্তা গণমাধ্যমে প্রচার না করার পুনরায় আহ্বান জানিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আদালত অমান্য করে তাঁর বক্তব্য প্রচার কিংবা প্রকাশ করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য ও গণমাধ্যমে প্রচারের বিষয়ে আদালতের একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বহাল রয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছিল সরকার। ফলে কোনো গণমাধ্যম যদি আদালতের এই নির্দেশনা অমান্য করে তাঁর বক্তব্য প্রচার করে কিংবা আগাম প্রচারের বিষয়ে ঘোষণা দেয়, তবে তা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল বলে গণ্য হবে। গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আদালতের সিদ্ধান্ত ও দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলার জন্য আবার তাগিদ দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত ও আদেশের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান আইনি দায়িত্ব। বিচার ব্যবস্থার ওপর শ্রদ্ধা রেখে আইন মেনে চলাই সবার কর্তব্য। তবে আদালতের স্পষ্ট বাধা না থাকলে যেকোনো রাজনৈতিক ব্যক্তির বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া সমীচীন হতো না উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো আদেশের বিষয়ে ভিন্নমত থাকলে তা আদালতে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বা সংশ্লিষ্ট বিচারালয়ের সেই নির্দেশনা বহাল থাকবে, ততক্ষণ তা মান্য করা সবার জন্য বাধ্যতামূলক।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে ভারতের কাছে ইতিমধ্যে শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক নানা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। ফলে দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। গ্রেপ্তারের পর তিনি প্রচলিত আইন অনুসরণ করে আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই আইনগত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে সরকার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক আহ্বান প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, অতীতে দেওয়া বিভিন্ন বার্তা বা আহ্বানের তেমন কোনো বাস্তব বা সাংগঠনিক প্রভাব মাঠপর্যায়ে দেখা যায়নি। বিগত সরকারের আমলের কিছু সুবিধাভোগী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এখনো থাকতে পারে, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে কোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ জানানোর নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাঁদের নেই।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না—সংবাদদাতাদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মুহূর্তটি ছিল অত্যন্ত ব্যতিক্রমী। বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেই বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ মুহূর্তে ওই সময়ের ঘটনাবলি নিয়ে নতুন করে কোনো তদন্ত কার্য পরিচালনার পরিকল্পনা সরকারের নেই।
অন্যদিকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনসংক্রান্ত তথ্য সরকারের কাছে পৌঁছাতে কয়েক দিন বিলম্ব হওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য তাঁর কাছে তাৎক্ষণিকভাবে নেই। তবে তথ্যের এই আদান-প্রদানে কোনো ধরনের সমন্বয়হীনতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিতে আনা হবে।
প্রশাসনে বিগত সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও শেখ হাসিনার দেশত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের একযোগে সরিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গণসেবা অব্যাহত রেখে এবং নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পদায়ন সম্পন্ন করছে, যাতে রাষ্ট্রীয় সেবাদান ব্যবস্থা ব্যাহত না হয়।