বিশেষ প্রতিবেদক
মালয়েশিয়ার কেদাহ রাজ্যের বেলান্তিক ইমিগ্রেশন ডিপো পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানে থাকা বিভিন্ন মেয়াদে সাজাভোগ শেষ করা ৯৬ জন বাংলাদেশি অভিবাসীর খোঁজখবর নিতে এবং তাদের দ্রুত দেশে প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৩ আগস্ট (সোমবার) এই পরিদর্শন পরিচালনা করা হয়।
হাইকমিশনের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে দুই সদস্যের এক প্রতিনিধি দল দিনব্যাপী এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরিদর্শনকালে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ডিপোতে আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক অবস্থার তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় আটক কর্মীদের মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে এবং দেশে স্বজনদের উদ্বেগ কমাতে হাইকমিশনের উদ্যোগেই ক্যাম্প থেকেই তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের বিশেষ সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়।
ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা কর্মীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে একই দিনে প্রয়োজনীয় নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে ২৬টি ট্রাভেল পারমিট বা একমুখী ভ্রমণ অনুমোদন ইস্যু করে স্থানীয় ক্যাম্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাকি কর্মীদের তথ্যাদি যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে অবশিষ্ট ট্রাভেল পারমিটগুলোও ডিপো কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ সুযোগ চালু রেখেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা দিয়ে যেকোনো অনথিভুক্ত কর্মী কোনো প্রকার জেল বা কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি না হয়ে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও ইমিগ্রেশন বিভাগ সমন্বিতভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এসব অভিযানে অবৈধভাবে অবস্থানের দায়ে গ্রেপ্তার হয়ে বহু বাংলাদেশি কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং সাজা মেয়াদে শেষ হলেও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়ায় তারা এসব ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে আছেন।
আটক প্রবাসীদের জটিলতা নিরসন ও দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে হাইকমিশন সম্প্রতি তৎপরতা জোরদার করেছে। বিষয়টি নিয়ে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একাধিক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস। বেলান্তিক ডিপোর ন্যায় অন্যান্য রাজ্যে থাকা ডিটেনশন কেন্দ্রগুলোতেও দূতাবাসের একাধিক দল পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে, যাতে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর মাধ্যমে জটিলতা কাটিয়ে দ্রুততম সময়ে বন্দি কর্মীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়।