অর্থনীতি প্রতিবেদক
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য বিশেষ কর প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ঘোষিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে স্বাভাবিক ব্যক্তি এবং হিন্দু অবিভক্ত পরিবারভুক্ত (এইচইউএফ) করদাতারা তাঁদের পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন। তবে এই বিশেষ সুবিধার আওতায় কর ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রিটার্ন জমা দিলে এই ছাড় আর প্রযোজ্য হবে না।
রবিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যাবলি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করদাতাদের স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে উদ্বুদ্ধ করা এবং কর আদায় প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধানের আওতায় এই প্রণোদনা সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। দেশের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং আধুনিক কর সংস্কৃতি গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এনবিআর এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
এনবিআরের সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যেসব ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা তাঁদের বার্ষিক রিটার্ন জমা দেবেন, কেবল তাঁরাই পরিশোধযোগ্য করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ছাড়ের সুবিধা পাবেন। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা হলে স্বাভাবিক নিয়মে জমা নেওয়া হবে, তবে সেক্ষেত্রে কোনো ধরনের কর প্রণোদনা বা বিশেষ ছাড় পাওয়া যাবে না।
নির্দিষ্ট অর্থবছরের নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর রিটার্ন দাখিল করলে করদাতাদের জরিমানা বা অতিরিক্ত কর প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এনবিআরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে বিলম্বিত রিটার্ন জমা দেওয়া হলে পরিশোধযোগ্য মোট করের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ অথবা সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি অঙ্কে বেশি হবে, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হবে। আর যদি রিটার্ন দাখিলে আরও বিলম্ব ঘটে এবং তা ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে জমা পড়ে, তবে পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ বা সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি হয়, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মনে করছে, এ ধরণের সুনির্দিষ্ট কর প্রণোদনা সাধারণ করদাতাদের সময়মতো নিজেদের রিটার্ন দাখিলে ইতিবাচকভাবে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে বিলম্বিত রিটার্ন দাখিলের প্রবণতা হ্রাস পাবে, যার ফলে কর প্রশাসনের দৈনন্দিন কার্যক্রম আরও সুসংহত, দক্ষ ও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ২২ জুলাই থেকে ২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন সহজীকরণের লক্ষ্যে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ইলেকট্রনিক রিটার্ন বা ই-রিটার্ন সেবা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করে এনবিআর। ডিজিটাল এই কাঠামোর আওতায় করদাতারা নিজেদের বাসভবন বা কার্যালয়ে বসেই অনলাইনে সহজে আয় বিবরণী জমা দিতে পারছেন। কর পরিশোধের জন্য অনলাইন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো বিভিন্ন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করা যাচ্ছে। সফলভাবে রিটার্ন জমার পরপরই প্ল্যাটফর্মটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ ডাউনলোড করার সুবিধা রয়েছে।
অনলাইন ই-রিটার্ন সিস্টেমে আবেদন বা আয় বিবরণী জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে তা সমাধানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত সাধারণ অফিস চলাকালীন সময়ে এনবিআরের নিবেদিত কল সেন্টার ও অন্যান্য ডিজিটাল সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অতিরিক্ত জরিমানা বা অতিরিক্ত কর এড়াতে এবং সরকারের ঘোষিত প্রণোদনা সুবিধা গ্রহণ করতে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব যোগ্য করদাতাকে রিটার্ন দাখিলের তাগিদ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।