বিশেষ প্রতিবেদক
ঢাকার চারপাশের নদীপথকে সচল ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে চক্রাকার নৌপথে আবারও ওয়াটার বাস চালুর নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ পরিকল্পনার কথা নিশ্চিত করেছেন।
রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সড়ক ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় রূপরেখা চূড়ান্ত করে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে আশুলিয়া থেকে শুরু করে সদরঘাট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত নদীপথকে যাত্রীবান্ধব হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ রুটে সময় বেশি লাগা, যাত্রীস্বল্পতা এবং নদীদূষণের কারণে পূর্বের সরকারি উদ্যোগ ব্যর্থ হলেও নতুন পরিকল্পনায় ভ্রমণ ও বিনোদনকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেবার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
পূর্বে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) পরিচালিত ওয়াটার বাস সেবাটি যাত্রীসংকট ও অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের কারণে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে গত এক দশকে সংস্থাটির প্রায় ৫৭ কোটি টাকা লোকসান হয়। ওই লোকসানের মূল কারণসমূহ পর্যালোচনা করা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর দূষণ দূর করা ও নাব্যতা বৃদ্ধিই এই প্রকল্পের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নদীর পরিবেশ মনোরম না হলে যাত্রী আকর্ষণ করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দুই তীরের পরিবেশ উন্নয়ন ও নদী সুরক্ষার কাজ ত্বরান্বিত করা হবে।
প্রকল্পের কৌশলগত প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে জানা যায়, টঙ্গীর রেলসেতুসহ বেশ কয়েকটি নিচু সেতুর কারণে ওয়াটার বাস চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সড়কপথের সেতুগুলো প্রয়োজনে উঁচু করা গেলেও রেলসেতু উঁচু করা বাস্তবসম্মত নয়। ফলে সেসব স্থানে যাত্রীদের সুবিধার্থে বিকল্প নৌযান পরিবর্তন ব্যবস্থা চালু রাখার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত সংখ্যক নৌযান নির্দিষ্ট সময় পর পর চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার বিষয়টিও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আপাতত পৃথক কোনো বাজেট নির্ধারণ করা হয়নি, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নিজস্ব দায়িত্বে কাজ সম্পাদন করবে। ঢাকার যানজট হ্রাস ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।