রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকার যানজট নিরসন, পরিবেশ রক্ষা এবং নগরীর সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করার লক্ষ্যে রাজধানীর চারপাশের নৌ-পথগুলো পুনরায় সচল করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে নদ-নদীর দূষণ প্রতিরোধ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিক উন্নয়ন এবং নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিশেষ সভাকক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় ঢাকার চারপাশের নৌ-পথগুলোকে কার্যকর ও জনপ্রিয় করতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জানানো হয়, আগ্রহী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও বিবেচনা করে তাদের ঢাকা ঘিরে ওয়াটার বাস পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে।
বৈঠকে পরিবেশ সুরক্ষা এবং নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশের সুষম ভারসাম্য রক্ষা ও নদীর তীরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বাড়াতে নদীর চারপাশে নির্মিত ওয়াকওয়ের (হাঁটার পথ) দুই পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে একদিকে নদীর পাড় দখলমুক্ত রাখা সহজ হবে, অন্যদিকে পরিবেশগত সুফল পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে ঘিরে গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ এটিই প্রথম নয়। বিগত বিভিন্ন সময়ে ঢাকার ওয়াটার বাস সার্ভিস চালু করা হলেও নিয়মিত তদারকি, নাব্যতা সংকট এবং নদীর বিষাক্ত দূষণের কারণে তা চূড়ান্ত সাফল্য পায়নি। ফলে ঢাকার ওপর সড়কপথের চাপ ক্রমেই বেড়েছে এবং যানজট তীব্র রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়াটার বাস সার্ভিস পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হলে এবং বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করা গেলে নগরীর যাত্রী পরিবহনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুষ্ঠিত এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।