বাংলাদেশ ডেস্ক
মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে আর যেন কোনো ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। শনিবার (১ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটানোর আন্দোলনে সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তিগুলো অভূতপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করেছে। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে এবং যেকোনো ধরনের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার উত্থান রুখতে দেশের জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যে মন্ত্রী তৎকালীন বিরোধী দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৫ বছরের আন্দোলনকে যৌক্তিক পরিণতিতে পৌঁছাতে আন্দোলনকারী দলগুলো মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে আন্দোলনের কঠিন সময়ে সারা দেশকে ঐক্যবদ্ধ করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে বলেই গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে বিগত ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলন, রাজপথের সংগ্রাম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দমন-পীড়ন এবং পরবর্তীকালে সংগঠিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল মুহূর্তগুলোর দুর্লভ ছবি স্থান পায়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কর্মী, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন এবং আলোচনা সভায় অংশ নেন।
আলোচকরা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই ইতিহাস এবং আন্দোলনের ত্যাগকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার ওপর তারা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একই সঙ্গে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত সমাজ গঠনে রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।