অনলাইন ডেস্ক
ফ্যাসিবাদের পতন ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর রাজপথে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা না করে সকলকে দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অপচেষ্টার বিষয়ে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনগণের কল্যাণে প্রয়োজন হলে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না।
আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিবাদের ১৫ বছর ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছর ধরে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের সাহসের সঙ্গে দীর্ঘ সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ যুক্ত হয়ে বিজয় নিশ্চিত করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর রাজনৈতিক বিভ্রান্তিতে থাকার সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় এখন মূল অঙ্গীকার দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার নিশ্চিত করা।
একটি মহল দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগ না দিয়ে রাজপথে সংকট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার এই চক্রান্ত সম্পর্কে সচেতন। জনগণ দায়িত্ব দেওয়ায় সরকার ধৈর্যশীল ও অভিভাবকসুলভ আচরণ করছে, তবে প্রয়োজনে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য উদ্বোধকের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বলেন, ফ্যাসিবাদের দুঃশাসন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইতিহাস ও ত্যাগের বিবরণ জানতে পারবে।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী গণঅভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড ও অপসংস্কৃতি রুখতে সরকারের কঠোর ভূমিকার দাবি জানান। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য দ্রুত রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের আন্দোলন সফল হয়েছে উল্লেখ করে সকল বিজয়ী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাঁর বক্তব্যে বলেন, গণঅভ্যুত্থান ছিল পুরো জাতির আন্দোলন, তাই রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও নৈরাজ্য পরিহার করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি, বিপিজেএ-এর সভাপতি এ কে এম মহসীন ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার বক্তব্য রাখেন। আলোচনা সভা শেষে অতিথিরা বিপিজেএ গ্যালারিতে সংরক্ষিত বিগত ১৫ বছরের আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের চিত্রসম্বলিত দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।