জনগণকে দেওয়া গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং সংসদীয় চর্চাকে কার্যকর করতে বর্তমান জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি জানান, দেশের ১৮ কোটি মানুষ সংসদের কার্যক্রম গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেই বিশ্বাস করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, বর্তমান সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও প্রেক্ষাপটের দিক থেকে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ। বর্তমান বাস্তবতায় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের সমন্বয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও সংসদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রের মূল সৌন্দর্য হচ্ছে পারস্পরিক আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্স, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, পাকিস্তান ও ভারতের সংসদীয় ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারিত হওয়া উচিত সংসদের মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ১৯৭৯ সালের সংসদীয় চর্চার বিষয়গুলো তিনি স্মরণ করেন। এছাড়া ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
ভারপ্রাপ্ত স্পিকার আরও জানান, ২০০৮ সালের পর পরবর্তী নির্বাচনগুলোর ধারাবাহিকতায় দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নানা সংকট তৈরি হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে। অর্জিত এই নতুন গণতান্ত্রিক ধারায় মহান জাতীয় সংসদই হবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের মূল কেন্দ্র।