আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সামরিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জের ধরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এতে করে কয়েক দিনের আপেক্ষিক বিরতির পর অঞ্চলটিতে বহুমাত্রিক সংঘাত নতুন রূপ লাভ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালির নৌপথে ইরান হামলা চালায়। সেই আগ্রাসনের জবাবেই ইরানের সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে কার্যকর আক্রমণ পরিচালনা করা হচ্ছে। গত বছর থেকে অব্যাহত মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার হামলা বন্ধের সাময়িক ঘোষণা দেওয়া হলেও তা সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই ভেঙে পড়ল।
ইরানের স্থানীয় ও মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে। রাজধানী বা কৌশলগত কেন্দ্রগুলো ছাড়াও কেশম দ্বীপে অন্তত তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারস্য উপসাগরের উপকূলবর্তী বুশেহর প্রদেশ, খুজেস্তান প্রদেশের আবাদান শহর, হোরমোজগান প্রদেশের বন্দর আব্বাস এবং কিশ ও আবু মুসা দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে একযোগে হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের সংবাদ মাধ্যমগুলো।
হামলার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী সামরিক দিক থেকে ইরানের ওপর চরম আঘাত হানতে প্রস্তুত এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণ ইরানকেই নিতে হবে।
এর আগে ইরাকি ভূখণ্ডে অবস্থানরত ইরানপন্থী সশস্ত্র সংগঠনগুলোর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো মার্কিন ও সৌদি সামরিক বাহিনী যৌথভাবে বিমান হামলা চালায়। এই ঘটনার পরদিনই ইরানে সরাসরি মার্কিন হামলার ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের বৃহৎ জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন আক্রমণ এবং বিশ্ববাজারে সম্ভাব্য তেল সংকটের উদ্বেগের মাঝেই এই সামরিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
আইআরজিসির (ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জর্ডানের মার্কিন বিমানঘাঁটি ও সামরিক নির্দেশ কেন্দ্রে তারা হামলা চালিয়েছে। মার্কিন আক্রমণ ও আঞ্চলিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত বলে তাদের দাবি। পাশাপাশি, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ পথে যাতায়াত করার অভিযোগে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও আঘাত হানার কথা স্বীকার করেছে আইআরজিসি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের যে ক্ষীণ আশা দেখা দিয়েছিল, এই জোড়া হামলার মাধ্যমে তা সাময়িকভাবে থমকে গেল। সামরিক বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং একাধিক পরাশক্তির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের কারণে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।