শেয়ার বাজার ডেস্ক
চলতি ২০২৬ হিসাববছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি–জুন) ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসির সমন্বিত কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৫৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০২৩ সালের একই সময়ে ব্যাংকটির নিট মুনাফা ছিল ৯০৬ কোটি টাকা। মূলত নিট সুদ আয় ও বিনিয়োগ আয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির ওপর ভর করে ব্যাংকটি এ আর্থিক সাফল্য অর্জন করেছে। ২৮ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদন পাওয়া অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি–জুন সময়ে ব্র্যাক ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ টাকা ৯ পয়সা। পাশাপাশি ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) আগের বছরের ৪৪ টাকা ৮৪ পয়সা থেকে বেড়ে ৪৯ টাকা ৩৮ পয়সা হয়েছে। পরিচালন কার্যক্রমে ব্যাংকটির নগদ প্রবাহ শক্তিশালী থাকায় শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহও (এনওসিএফপিএস) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মূলত আমানত সংগ্রহ এবং ব্যাংক ঋণের ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ফল।
ক্যালেন্ডার বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল–জুন) ব্র্যাক ব্যাংক ৭২৭ কোটি ৭৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি। উক্ত একক প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ৫৫ পয়সা। কর-পরবর্তী নিট আয় বৃদ্ধি এবং ট্রেজারি বিভাগের অধীনে থাকা সরকারি সিকিউরিটিজের পুনর্মূল্যায়ন রিজার্ভ বাড়ার কারণে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, খুচরা ব্যাংকিং ও এসএমই খাতে ঋণের শক্ত অবস্থান, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার এবং প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দক্ষ ব্যালেন্স শিট ব্যবস্থাপনার কারণে ব্র্যাক ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। ব্যাংকটি পূর্বেও লভ্যাংশে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে, যার অংশ হিসেবে গত ২০২৫ হিসাববছরে ৩০ শতাংশ, ২০২৪ সালে ২৫ শতাংশ (সাড়ে ১২ শতাংশ নগদ ও সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস) এবং ২০২৩ সালে ২০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করে। প্রথম ছয় মাসের প্রবৃদ্ধির এ ধারা বজায় থাকলে বছর শেষে ব্র্যাক ব্যাংক তার পরিচালনা পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আরো ইতিবাচক আর্থিক রেকর্ড গড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।