বাংলাদেশ ডেস্ক
পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটন শিল্প বিকাশে কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, পাহাড়ের পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্য রেখেই দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা করতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো একদিকে যেমন পর্যটন খাতের বহুমুখী বিকাশ নিশ্চিত করা, অন্যদিকে অন্যদিকে পাহাড়ের বাস্তুতন্ত্র ও পরিবেশের ভারসাম্য কোনোভাবেই যেন হুমকির মুখে না পড়ে।
রোববার বিকেলে রাঙ্গামাটি শিশু পার্কের অভ্যন্তরে একটি নতুন দৃষ্টিনন্দন ওয়াচ টাওয়ার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। রাঙ্গামাটির আকর্ষণীয় পর্যটন স্পটগুলো এবং কাপ্তাই লেকের নৈসর্গিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও নিবিড়ভাবে উপভোগ করার সুবিধার্থে এই অবকাঠামোটি নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহাম্মদ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (অর্থ) সুমন বড়ুয়া, সদস্য (পরিকল্পনা) জাহিদ ইকবাল এবং রাঙ্গামাটি পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনের পর প্রতিমন্ত্রী ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ নবনির্মিত ওয়াচ টাওয়ারের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং এর নির্মাণশৈলী ও সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বেগবান ও আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সরাসরি বাস্তবায়নে এই দৃষ্টিিনন্দন ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণকাজে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে ঘুরতে আসা দেশি ও বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এই নতুন ওয়াচ টাওয়ারটি বিনোদনের ক্ষেত্রে একটি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করবে। কাপ্তাই লেকের সুপরিসর জলরাশি এবং চারপাশের সবুজ পাহাড়ের অবিরাম মায়াবী রূপ দর্শনার্থীরা এখন আরও উঁচুতন ও নিরাপদ অবস্থান থেকে উপভোগ করতে পারবেন।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পর্যটন শিল্প দিন দিন একটি সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। তবে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যত্রতত্র স্থাপনা নির্মাণের কারণে পাহাড়ের নাজুক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে রয়েছে। পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য রক্ষা করে কেবল পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। প্রতিমন্ত্রীর এই নতুন নির্দেশনার ফলে পাহাড়ের প্রকৃত রূপ অক্ষুণ্ন রেখে ভবিষ্যৎ পর্যটন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি যেমন গতিশীল হবে, তেমনি এলাকার দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্যও সুরক্ষিত থাকবে। সরকারের এই বহুমুখী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।