1. admin@deshmediabd.info : admin :
  2. support@bdsoftinc.info : adminr :
মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
রাজধানীর কলাবাগান থানায় নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার খেলার মাঠের বাইরে ইউরোপীয় ফুটবলের করপোরেট লড়াই ও ব্র্যান্ড মূল্যের শীর্ষস্থান ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরালো করার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বায়তুল মোকাররমে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণের নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি পর্যালোচিত মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে পিপিপি মডেলে বিনিয়োগের আহ্বান কক্সবাজার বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ ও হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উদ্বোধনে বায়তুল মোকাররমে শুরু হচ্ছে ১৫ দিনব্যাপী সিরাতুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠান রাজধানীতে ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে অস্ত্র, মাদকসহ গ্রেফতার ৪৪০

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরালো করার পাশাপাশি সামরিক বিকল্পও খোলা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র

রিপোর্টার
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অর্থনৈতিক অবরোধ এবং কঠোর চাপ প্রয়োগের কৌশল অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষা বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, তেহরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ বা সামরিক সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করা হলে ওয়াশিংটন যেকোনো সময় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অক্ষুণ্ণ রাখতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।

উইসকনসিনের ওশকশ এলাকায় প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে এই কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সেখানে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করাই ওয়াশিংটনের প্রাথমিক কৌশল। তবে এর পাশাপাশি সামরিক অভিযান বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পথ থেকেও যুক্তরাষ্ট্র সরে আসছে না। প্রয়োজন সাপেক্ষে হরমুজ প্রণালি কিংবা সংবেদনশীল অঞ্চলে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের পূর্ণ প্রস্তুতি মার্কিন বাহিনীর রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বার ও বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহনের রুট হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, পূর্বের তুলনায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। দেশটির নৌবাহিনী, রাডার নেটওয়ার্ক, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণে তেল সরবরাহ লাইনে আগের মতো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারছে না তেহরান। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হচ্ছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

কৌশলগত এই সামরিক অবস্থানের সমান্তরালে তেহরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে একটি নতুন অর্থনৈতিক অভিযান শুরু হয়েছে। মার্কিন অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক এই উচ্চপর্যায়ের আর্থিক অভিযানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে ইরানকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা এবং যেসব আর্থিক উৎস বা বাণিজ্যের ওপর ভর করে দেশটির বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো টিকে রয়েছে, সেগুলোর প্রবাহ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐতিহাসিক মিত্রবাহিনীর অভিযানের আদলে গড়া এই অর্থনৈতিক কৌশলের আওতায় ইরান সরকারের সঙ্গে জড়িত বৈশ্বিক আর্থিক যোগাযোগ, ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, বিমান এবং নৌপরিবহন খাতকে বিশেষভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যেসব দেশ বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন অব্যাহত রাখবে, তাদেরকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্ব অর্থনীতি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকা অথবা স্বাভাবিক ধারায় ফিরে এসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার শর্ত মেনে নেওয়া—এই দুটির যেকোনো একটি পথ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান এখন চরম সংকটের মুখে রয়েছে। অর্থনীতির এই নজিরবিহীন চাপের মুখে তেহরানকে শেষ পর্যন্ত তাদের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করছে মার্কিন প্রশাসন।

এদিকে ওয়াশিংটনের এই নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক হুশিয়ারির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান সরকার ও দেশটির নেতৃত্ব পর্যাপ্ত বিচক্ষণতা এবং রাজনৈতিক দৃঢ়তার সঙ্গেই এই সংকট মোকাবিলা করবে। দেশের সাধারণ মানুষের ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যমে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন চ্যারেঞ্জ অতীতেও সফলভাবে পার করা হয়েছে এবং এবারও তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর ভূরাজনৈতিক চাপের মুখে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ বজায় রয়েছে।

s
এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026