বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের বাজারে প্রচলিত টুথপেস্টে ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) সাম্প্রতিক এক গবেষণার প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য সাধারণ জনগণকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইএসডিও তাদের গবেষণায় দেশে প্রাপ্ত ৩৪টি টুথপেস্ট নমুনার মধ্যে ২৬টিতেই ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রাকৃতির প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। এর জবাবে বিএসটিআই জানিয়েছে, বিদ্যমান জাতীয় মানদণ্ড ‘বিডিএস ১২১৬:২০১২’ অনুযায়ী টুথপেস্টে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ৮১টি কাঁচামালের তালিকায় কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক অন্তর্ভুক্ত নেই। বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিং ব্যবস্থার আওতায় পণ্যের রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও সুরক্ষা প্যারামিটার পরীক্ষা করেই বাজারজাতকরণের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিএসটিআই আরও স্পষ্ট করেছে, কণার সঠিক ধরন, উৎস ও পরিমাণ নির্ধারণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দিকনির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ ঘোষণা করা বিজ্ঞানসম্মত নয়। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে মিশে যাওয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের সর্বোচ্চ সীমা বা একক কোনো পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০২৭ সালের মধ্যে ইচ্ছাকৃত মাইক্রোবিডের ব্যবহার বন্ধের সময়সীমা নির্ধারণ করলেও ভারত, পাকিস্তান বা সার্ক অঞ্চলের মানদণ্ডে এর সুনির্দিষ্ট মাত্রা উল্লেখ নেই।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএসটিআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইএসডিওর কাছ থেকে পরীক্ষার মূল উপাত্ত ও পদ্ধতি সম্পর্কিত তথ্য আহ্বান করেছে। একই সঙ্গে উৎপাদক ও আমদানিকারকদের কাঁচামালের তথ্য সংগ্রহ এবং বাজার থেকে সংগৃহীত নমুনা দেশি-বিদেশি স্বীকৃত ল্যাবে পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ হিসেবে বিশেষজ্ঞ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক ও ভোক্তা প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে টুথপেস্টের জাতীয় মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সাপেক্ষে মানদণ্ডে সংশোধন এনে মাইক্রোবিড নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষা পদ্ধতি যুক্ত করা হবে। পরীক্ষায় মানহীনতা বা নিষিদ্ধ উপাদানের প্রমাণ মিললে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।