অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার (ফরেক্স) গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৬ দশমিক ৪৫৭ বিলিয়ন (৩ হাজার ৬৪৫ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭৪৯ বিলিয়ন (৩ হাজার ১৭৪ কোটি ৯০ লাখ) মার্কিন ডলারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধির ইতিবাচক ধারা এবং রফতানি আয়ের সমন্বিত প্রভাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্তিশালী করতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। চলতি মাসের প্রথম ২৭ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় বাবদ ২৫২ কোটি মার্কিন ডলার এসেছে, যা বিগত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। বৈধ ও ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় আসার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক পথ রোধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে বৈদেশিক মুদ্রার তারল্যে এই নতুন গতি সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল) মানদণ্ড অনুযায়ী, রিজার্ভের মোট হিসাব থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা আমানত, বিভিন্ন সংস্থাকে প্রদত্ত ঋণ, বিশেষ অঙ্কন অধিকার (এসডিআর) এবং অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়। এই নিয়মে বর্তমানে রিজার্ভে রক্ষিত ৩১ দশমিক ৭৪৯ বিলিয়ন ডলার দিয়ে দেশের প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাসের জরুরি পণ্য ও সেবার আমদানি ব্যয় পরিচালনা করা সম্ভব। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে থাকাকে একটি দেশের অর্থনীতির জন্য নিরাপদ সীমা বলে গণ্য করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যের ওঠানামা সত্ত্বেও দেশের রিজার্ভে এই বৃদ্ধি সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ধরনের সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। বৈদেশিক বাণিজ্যের চলতি হিসাবের ঘাটতি হ্রাস, আমদানি এলসি খুলতে ডলার ঘাটতির সংকট নিরসন এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এই সঞ্চয় কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, রিজার্ভ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে বৈশ্বিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক আস্থা সংহত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ও অর্থনৈতিক চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পূর্বে ডলার সংকটের কারণে রিজার্ভের ওপর যে বিরূপ চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের নীতিগত সংস্কার ও মুদ্রানীতির সঠিক প্রয়োগ সুফল দিতে শুরু করেছে। মুদ্রাবাজারের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কৃত্রিম ঘাটতি রোধ এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় এই রিজার্ভের সুরক্ষা প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনয়ন ও বৈদেশিক বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি পেলে রিজার্ভের অবস্থান আরও সুসংহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।