আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক বিমানগুলোতে ব্যবহৃত শত শত বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজের যাত্রী ও ক্রু আসনগুলোর স্থাপন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসন (এফএএ)। বোয়িংয়ের বেশ কিছু উড়োজাহাজে আসনগুলো ভুল বা ত্রুটিপূর্ণভাবে বসানো হয়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কায় জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো পরিদর্শনের প্রস্তাবিত নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
এফএএ-র প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নিবন্ধিত অন্তত ৪৫৩টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান সরাসরি সম্পর্কিত। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি অবতরণ বা আকস্মিক ঝাঁকুনির সময় ভুলভাবে স্থাপিত এসব আসন মূল কাঠামো থেকে আলাদা বা উপড়ে যেতে পারে। এর ফলে কেবল যাত্রী এবং ক্রু সদস্যদের মারাত্মক শারীরিক আঘাতের ঝুঁকিই বাড়ছে না, বরং দুর্ঘটনাকালীন পরিস্থিতিতে বিমানের ভেতরের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে জরুরি অপসারণ প্রক্রিয়া ব্যাপকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই বাধ্যবাধকতা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আকাশসীমায় নিবন্ধিত উড়োজাহাজগুলোর জন্য প্রযোজ্য হলেও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আন্তর্জাতিক নীতি অনুসারে মার্কিন সংস্থা এফএএ বিশ্বব্যাপী পরিচালিত বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশ জারি করতে পারে না। তবে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতে সংস্থাটির গৃহীত নিরাপত্তা নির্দেশিকা ও সিদ্ধান্তগুলো সাধারণত অন্যান্য দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ অবিকল অনুসরণ করে থাকে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সতর্কবার্তার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বজুড়ে পরিচালিত অন্য ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজগুলোতেও একই ধরনের বাধ্যবাধকতা আসতে পারে।
ফ্লাইট সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইবিএ-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২ হাজার ৩০০টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান নিয়মিত আকাশে উড়ছে, যার মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই পরিচালিত হচ্ছে ৮২৩টি। এই ঘটনার বিষয়ে বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিষয়টি নিয়ে তারা ইতোমধ্যেই অবহিত এবং তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পদক্ষেপ গ্রহণকে সমর্থন করে। বিমান পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর সুবিধার জন্য কোম্পানিটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই সম্পর্কিত একটি প্রযুক্তিগত নির্দেশনা জারি করেছিল, যা এখন এফএএ বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের বেশ কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়ায় কোম্পানিটির সার্বিক উৎপাদন মান, নকশাগত নিরাপত্তা এবং মাননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর বৈশ্বিক পর্যায়ে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। নতুন এই আসন সংক্রান্ত জটিলতা বাণিজ্যিক বিমান খাতে বোয়িংয়ের সার্বিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আলোচনা ও সমালোচনায় নতুন মাত্রার উদ্বেগ যুক্ত করল।