অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের চীনের ঐতিহ্যবাহী ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট ফেয়ার বা ‘ক্যান্টন ফেয়ার’-এ অংশগ্রহণ সহজতর করতে বিশেষ ভিসা সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস। ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত চীনের গুয়াংজুতে তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৪০তম ক্যান্টন ফেয়ারের অনসাইট প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধার আওতায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত করে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ক্যান্টন ফেয়ারে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য মেলার অফিসিয়াল আমন্ত্রণপত্রই হবে ভিসা আবেদনের মূল ও বাধ্যতামূলক নথি। তবে আবেদনপ্রক্রিয়া দ্রুত ও মসৃণ করার লক্ষ্যে আবেদনকারীরা চাইলে অতিরিক্ত সহায়ক নথি হিসেবে নিজেদের পূর্ববর্তী চীন ভ্রমণের তথ্য, আগের ইস্যুকৃত ভিসা এবং নিজস্ব কোম্পানির গ্যারান্টি লেটার অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। এতে করে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের ক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আবেদনকারীদের অনলাইন ফর্ম নিখুঁতভাবে পূরণের ওপর কঠোর গুরুত্ব দিয়েছে দূতাবাস। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, যেকোনো ধরনের অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যসংবলিত আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না এবং তা সংশোধন ব্যতিরেকে বাতিল বা ফেরত পাঠানো হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিশ্চিতে আবেদনকারীদের নিজেদের আবেদন ফর্ম নিজেরা পূরণ করার এবং যাবতীয় তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রতারণা ও জালিয়াতি রোধে এক সতর্কবার্তায় চীনা দূতাবাস জানায়, ভুয়া বা পরিবর্তিত আমন্ত্রণপত্র, অসত্য তথ্য কিংবা জাল কাগজপত্র জমা দিলে সরাসরি ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হবে। শুধু তা-ই নয়, এ ধরনের জালিয়াতি আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ চীন ভ্রমণের ওপর স্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। দূতাবাস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, কোনো তৃতীয় পক্ষ, ব্যক্তি বা সংস্থাকে ভিসা প্রদানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে ‘বিশেষ চ্যানেল’, ‘ভেতরের যোগাযোগ’ কিংবা ‘নিশ্চিত ভিসা’ সংক্রান্ত যেকোনো প্রলোভন ও প্রতারণামূলক দাবি থেকে আবেদনকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক সম্প্রসারণে ক্যান্টন ফেয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী এই মেলায় অংশ নেন। নতুন এই সহজীকৃত ব্যবস্থার ফলে আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য দূতাবাস সরাসরি ই-মেইল ও হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে।