বরিশাল — জেলা প্রতিনিধি
হাসপাতালে আগত রোগীদের মানসম্মত ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি সামগ্রিক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আধুনিক কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তিনি।
সোমবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে বরিশাল বিভাগীয় ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতাল কেবল চিকিৎসার জন্য অবকাঠামোগত কেন্দ্র নয়, এটি সাধারণ মানুষের ভরসা ও আস্থার অন্যতম শীর্ষস্থল। সরকারের গৃহীত উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলো সফল করার জন্য স্বাস্থ্য খাতের সবস্তরের কর্মীদের সমন্বিত প্রয়াস জরুরি। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা চালুকরণ এবং প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারলে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
তথ্যমন্ত্রী বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ, দক্ষ জনবল সৃষ্টি এবং সর্বোপরি একটি রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান এই চিকিৎসাকেন্দ্রে মানুষের দৈনন্দিন চিকিৎসা সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। চিকিৎসা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি করা গেলে স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।
উক্ত মতবিনিময় সভায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীরসহ অন্যান্য স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন। অন্য বক্তাদের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন শেবাচিমের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বাবলু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম এবং হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. নাজমুল আহসান।
আলোচনা সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ এই সরকারি হাসপাতালের বর্তমান সেবার মান, বিদ্যমান জনবল সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং তা উত্তরণের উপায় নিয়ে মতপ্রকাশ করেন। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি সংযোজন এবং পর্যাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা গেলে শেবাচিম হাসপাতাল থেকে বরিশাল অঞ্চলসহ সংলগ্ন জেলাগুলোর সর্বস্তরের মানুষকে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।