অর্থনীতি প্রতিবেদক
দেশের বাজারে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। একদিন আগেই এক লাফে বাড়ানোর পর আবার স্বর্ণের মূল্য হ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বাজুস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সর্বাধুনিক এই মূল্য সমন্বয়ের কথা জানানো হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণ বা তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজারদর পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
ঘোষিত নতুন দরপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ক্রয়ে গ্রাহককে পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন বিক্রয়মূল্য ধার্য করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, দেশের সব স্বর্ণ ও গহনা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী নির্দেশ বা সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে বিক্রয়কালে নির্দিষ্ট অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি যুক্ত হবে। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপ্যালঙ্কারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ইতোমধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে নতুন করে বা আলাদাভাবে কোনো ভ্যাট আদায় করা যাবে না। একই সঙ্গে সরকার নির্দেশিত ভ্যাট, কারিগর মজুরি ও মূল্যবান পাথর সংক্রান্ত হিসাব বাদ দিয়ে পুরাতন অলঙ্কার পরিবর্তন বা পুনরায় ক্রয়ের (এক্সচেঞ্জ ও পারচেজ) ক্ষেত্রে সংগঠনের পূর্বনির্ধারিত নিয়মাবলী যথারীতি বহাল থাকবে।
এর আগে সোমবার সকালে বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকায় উন্নীত করা হয়। ওই সময় ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে একই পরিমাণ মূল্য কমিয়ে বাজুস বাজারে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা চালালো।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজার এবং দেশের তেজাবি স্বর্ণের সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নিয়মিতভাবে এই মূল্য সমন্বয় করে থাকে। চলতি বছরে দেশের জুয়েলারি বাজারে স্বর্ণের দাম অভূতপূর্ব গতিতে ওঠানামা করেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৯৬ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ব্যবস্থাপনায় এক অনন্য রেকর্ড। এই ৯৬ বার সমন্বয়ের মধ্যে মোট ৪৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৪৮ বার দাম কমানো হয়েছে। বাকি ১ বার মূলত ভ্যাটের হারের সঙ্গে দর সমন্বয় করা হয়েছিল।
এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে দেশের বাজারে সর্বমোট ৯৩ বার স্বর্ণের দর সমন্বয় করা হয়েছিল। তখনকার বার্ষিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরজুড়ে ৬৪ বার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছর স্বর্ণের বাজারে মূল্য ওঠানামার প্রবণতা পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে আরও বেশি অনিশ্চিত ও দ্রুতগতির রূপ নিয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষকেই সার্বিক প্রভাব ফেলছে।