বিশেষ প্রতিবেদক
খুদে ক্রীড়াবিদদের মেধা অন্বেষণ ও বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর জাতীয় পর্বের পর্দা নামছে। আজ সোমবার রাজধানী ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত পর্বের লড়াই ও জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আসরটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। সমাপনী দিনে ফুটবল ইভেন্টের বালক ও বালিকা বিভাগের পৃথক দুটি ফাইনাল এবং বালক ও বালিকাদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের দুটি মূল লড়াই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশের প্রদীপ্ত খুদে খেলোয়ারদের এই সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সভাপতিত্ব করবেন।
সূচি অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এর পর বিকাল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে বালিকা বিভাগের ফুটবল ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধ উপভোগ করবেন। অনূর্ধ্ব-১৪ বয়সভিত্তিক এই ফুটবলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চল। ফুটবল ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি বালক ও বালিকা বিভাগের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা প্রত্যক্ষ করবেন। ক্রীড়া ইভেন্টগুলোর পাশাপাশি আয়োজনে থাকছে ক্রীড়াবিষয়ক বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী এবং ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২০২৬’-এর থিম সংয়ের সঙ্গে শিশু শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানের সূচনালগ্নে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম। এর পর সভাপতির বক্তব্যে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও ক্রীড়া খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সমাপনী আয়োজনের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের খুদে ক্রীড়াবিদদের মূলধারার খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ক্রীড়া পরিকাঠামো জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বক্তব্য প্রদান শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড় এবং অ্যাথলেটদের হাতে ট্রফি ও পদক তুলে দেবেন।
তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রীড়াবিদদের খুঁজে বের করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বড় পরিসরে এ প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর সারা দেশের সব উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে একযোগে আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতা পরিচালিত হয়। সারা দেশ থেকে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে ক্রীড়াবিদ আটটি ভিন্ন ভিন্ন ক্রীড়া ডিসিপ্লিনে এতে অংশ নেয়।
আঞ্চলিক পর্বের প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পাদন শেষে বিজয়ী অ্যাথলেটদের নিয়ে রাজধানী ঢাকার একাধিক ভেন্যুতে জাতীয় পর্বের খেলাগুলো আয়োজন করা হয়। জাতীয় পর্যায়ের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত এই প্রতিযোগিতা দেশের ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের মূল ভিত্তি তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।