বিশেষ প্রতিবেদক
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরস্থ জিয়া উদ্যানে অবস্থিত দুই নেতার মাজারে তিনি এই শ্রদ্ধা জানান। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত মোনাজাতে অংশ নেন। এ উপলক্ষে মাজার প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। চন্দ্রিমা উদ্যান ও শেরে বাংলা নগর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকতে দেখা যায়। দর্শনার্থী ও সংবাদকর্মীদের প্রবেশেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
এর আগে একই দিন সকাল সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। সাভারে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দেশের বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এই সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে স্বীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৪ ও ৫৪ অনুচ্ছেদের আলোকেই রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধানে উল্লেখ রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতাজনিত কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
দায়িত্বভার নেওয়ার পর এক সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞপ্তিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি বঙ্গভবনের কার্যালয় ব্যবহার করবেন। তবে তাঁর ব্যক্তিগত বাসস্থান হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন। সংবিধানে বর্ণিত বিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর নতুন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির স্মৃতিসৌধ ও প্রয়াত জাতীয় নেতাদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর এই পদক্ষেপ মূলত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ। আগামী দিনে নতুন রাষ্ট্রপতির নির্বাচন ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালনা কতটা মসৃণ হবে, সেদিকেই এখন নজর সচেতন রাজনৈতিক মহলের।