বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশের মানুষ একসময় নিজ দেশকে ফুটবল বিশ্বকাপে সমর্থনের সুযোগ পাবে এবং জাতীয় দল বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি জানান, ১০ বছর, ২০ বছর কিংবা ভবিষ্যতে যেকোনো সময়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলবে—এমন স্বপ্ন তিনি নিজেও লালন করেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন। বিনামূল্যে সরকারি উদ্যোগে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য ফুটবলপ্রেমী ও দেশের জনগণের পক্ষ থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—বাংলাদেশ কবে নাগাদ ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে? এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে দেশের মানুষ যেভাবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতি সমর্থন জোগায়, তাতে স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন জাগে যে আমাদের দেশ কবে এই আসরে খেলবে। একজন সাবেক খেলোয়াড় ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিনিধি হিসেবে তিনিও এ অনুভূতির সঙ্গে পুরোপুরি একমত। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তারিখ বেঁধে দেওয়া যৌক্তিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্রীড়া অবকাঠামো ও মাঠপর্যায়ের সার্বিক উন্নয়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।
খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক জানান, মাঠের প্রতিনিধি হিসেবে অতীতে দেশের ফুটবলের নানাবিধ সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি নিয়ে তিনি সোচ্চার ছিলেন। বর্তমান সরকারের অধীনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানে কাজ শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও কৌশলগত ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফুটবলের সার্বিক অবস্থা পুনর্গঠন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ফুটবল পরিকাঠামো একদম তৃণমূল পর্যায় থেকে নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত অর্থায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ, যোগ্য কোচিং স্টাফ নিয়োগ, বয়সভিত্তিক দল গঠন এবং অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শক্ত ভিত তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি ফুটবলপাগল জাতি হিসেবে সঠিক পরিকল্পনা ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশ একদিন বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে জায়গা করে নিতে সক্ষম হবে।
ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ এশীয় ও এশীয় অঞ্চলে প্রতিবেশীদের তুলনায় বাংলাদেশের ফুটবলের অগ্রগতি আশানুরূপ ছিল না। ফিফা র্যাংকিংয়ে দীর্ঘমেয়াদী অবনমন, প্রফেশনাল লিগের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কার্যকর অ্যাকাডেমির অভাব আন্তর্জাতিক সাফল্য অর্জনে মূল বাধা হিসেবে কাজ করছে। এ অবস্থায় সরকারের এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ এবং পরিকল্পনা ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের ফুটবল অঙ্গনে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।